
আমি দল ছেড়ে কোথাও কোনোদিন যাব না
কাজ নয়, থিয়েটারের মানে তাঁর কাছে ঐতিহ্য। দ্বিতীয় প্রজন্মের নাট্যজীবন নিয়ে কথা বললেন সোহিনী সেনগুপ্ত
Theatre was always a part of my life, আমার জীবনে ওটার একটা খুব বড়ো জায়গা ছিল। ছোটবেলা থেকে বাড়িতে বই, সিনেমা, বিভিন্ন ধরনের শিল্পচর্চা এসবের কোনো বাধা ছিল না। আমি খুব ছোটবেলায় Tarkovsky দেখেছি। বুঝিনি কিছু হয়তো, কিন্তু ওটা ছিল বাড়িতে। খুব বেশি পয়সা কোনোদিনই বাড়িতে ছিল না। তার সত্ত্বেও আমি যে বই চেয়েছি, ওরা আমাকে সেটা কিনে দিয়েছে। Music and books and films দেখে নিজের মতো করে একটা বড়ো হওয়া হয়েছে আমার।
আর বাবা-মা দু’জনেই বলতেন, “তোমার কী opinion?”
আমার ছোটবেলায় কোনো Tutor ছিল না। আমি self-taught। হয়তো একবার মাঝখানে Mathematics-এর একজন Tutor ছিলেন, আর পরবর্তীকালে কৌশিক রায়চৌধুরী আমাকে বাংলা কিছুটা পড়িয়েছেন। এছাড়া আমার খুব একটা Tutor ছিল না। তার ফলে নিজের opinion develop হয়েছে।
আরেকটা জিনিসেরও প্রভাব ছিল। আমার বাড়িতে ছোটবেলা থেকেই প্রচুর লোকের যাতায়াত ছিল। আমাদের বাড়িতে তিনটে ঘর, আটশো স্কোয়ার ফিটের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট, বাবা এখনও ওখানেই থাকেন। ওই ঘরটাতে, রতন থিয়াম, জাব্বার পাটেল, হাবিব তানভীর, শ্রীরাম লাগু, জামিল আহমেদ এরকম অনেকেই আসতেন। রতন কাকা প্রায়ই ওখানে এসে থাকতেন। মা রান্না করে দিতেন, খেতেন। মায়ের একটা ছোট স্টোভ ছিল, জনতার স্টোভ। তাতে মা রান্না করতেন।
My house was always an open house, বাড়িতে ঢোকার সময় অনেক বাইরে জুতো সাজানো থাকত। মানে, অনেকেই এসেছে। এই community living,যদি বলো, আমি সেটা দেখে ছোটবেলা থেকে বড়ো হয়েছি। সেটা আমাকে খুব মানুষের প্রতি আগ্রহী করেছে, I am very interested in people, সেজন্যই আমার জিনিসপত্র share করতে আমার কোনো অসুবিধা হয়নি।
আর অসুবিধা যেরকম হয়েছে, সেটা হলো মাঝে মাঝে আমার মনে হতো একটা privacy-র অভাব। বিশেষ করে আমি যখন বড়ো হচ্ছি, নাইন টেন-এ পড়ছি, প্রথম প্রথম প্রেম করা শিখছি তখন আমার একটা privacy-র অভাব হতো। মনে হতো, বাড়িতে এত লোক কেন? মাঝে মাঝে আমার ভালোই লাগত মা-বাবা বাড়িতে না থাকলে। আমি নিজের মতো থাকতাম বাড়িতে। খুব যে দুষ্টুমি করতাম তা নয়। কিন্তু নিজের মতো বইটই নিয়ে থাকতাম। নিজের মতো ঘুরে বেড়াতাম। একটু loner গোছেরই ছিলাম। সবাইকার মাঝেও আমার নিজের একটা জগৎ ছিল। আমি যে দল চালিয়ে নিয়ে যাব, এসব কোনোদিনই ভাবিনি। আমি শুধু ভেবেছি যে আমি দল ছেড়ে কোথাও কোনোদিন যাব না। এবং এই দলকে আমি শুধু serve করব। আমি এর থেকে কিছু নেব না।
এটাই আমি সবসময় মনে করেছি। কারণ, এই দল আমাকে আমার অত্যন্ত কঠিন সময়ে বাঁচিয়েছে। আমার যখন মন খারাপ হয়েছে, জীবনে অনেক কঠিন সময় গেছে, সেই সময় কিন্তু এই দল আমাকে বাঁচিয়েছে। দল মানে আমি কোনো মানুষের কথা বলছি না। এটা হয়তো আমার নিজের ভেতরে অভিনয় করার সত্ত্বা, এই যে power-টা আমি অনুভব করেছি অভিনয় করার সময়, সেইটাই আমাকে positive রেখেছে।
এখনও কিন্তু আমি কোনোদিন কারোর কাছে role চাইনি। আমি আজ অবধি কোনোদিন কারোর কাছে গিয়ে বলিনি, “আমাকে একটা role দেবে?” আমি যে চাইনি কারোর কাছে, তার কারণ হচ্ছে আমি দলে সবসময় practice-এর মধ্যে থেকেছি। নতুন কী নাটক করা যায়, নতুন কী কী ideate করা যায়, এইসব নানান creativity-র মধ্যে থেকেছি বলে আমার সত্যিই কোনোদিন মনে হয়নি যে আমার প্রচণ্ড টাকা দরকার বা ও অমুকটা পেল, আমি পেলাম না।
এই যে নানান কিছু মনে হওয়া, বা আমি কী কী lose out করছি, এসব আমার কোনোদিন মনে হয়নি। এখনও মনে হয় না।
এখনও আমার যদি কোনো অভিনয় বা কিছু ভালো হয়, সবাই আমাকে ভালো বলেন। আমার ওই আদরটা ভালো লাগে। আমাকে সবাই ভালো বলল বা পিঠ চাপড়ে দিল, এইটা আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু আমি বিশাল বড়ো বিখ্যাত star হলাম, এসব আমি কোনোদিন সত্যিই ভাবিনি। I am very lucky in that, যে আমি সবসময় একটা কিছু creativity pursue করেছি।
আর এই দল চালানোর ক্ষেত্রে, এটা naturally আমার এসেছে। যারা ছিলেন, তাঁরা বিভিন্ন কাজে নিজেরা যখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, মা চলে গেছেন, বাবার বয়স হয়ে গেছে, আমাদের দলের অনেক senior আলাদা করে তাঁদের নিজেদের দল করেছেন। কিন্তু আমি অন্য কোনো দল করার কথা ভাবিনি। আমি নান্দীকার ছেড়ে যাওয়ার কথা কখনো ভাবিনি। আমি নান্দীকারে আমার মৃত্যু অবধি থাকতে চাই। এক্ষেত্রে বোধহয় আমি খানিকটা আমার বাবার মতই। যে, তুমি সবকিছু আমার থেকে কেড়ে নিতে পারো, কিন্তু আমি নান্দীকারকে আমার থেকে কখনো আলাদা বা বিচ্ছিন্ন করে ভাবব না।
মানে আমি আমার মৃত্যুর পরে একটা plan ভাবি। যে নান্দীকারকে ভালোবাসবে, যে দেখবে, নান্দীকারকে ভালোবাসা মানে কী? বাবা আমাকে বলতেন, “দেখো, নান্দীকার মানে কী? নান্দীকার মানে শুভ কাজ করে যারা।”
শুভ কাজটা কী? সেটা হচ্ছে এই যে, কোনো কিছু অভিনয় করার সময়, কোনো কিছু create করার সময় তো মনের একটা প্রচণ্ড আনন্দ হয়। মন ভালো থাকে, মন তরতাজা থাকে। থিয়েটার করি বলেই আমি সুস্থ আছি। এইটা অনেক মানুষ যাতে করতে পারে, সবাইকে তুমি সেটা help করো। Everyone should have a good time। এই good time টার জন্য আমি মূলত থিয়েটার করে যেতে চাই।
আমার মনে হয়, এখন সবাই খুব একা হয়ে গেছে। সর্বক্ষণ সবাই Mobile Phone দেখে। এখন যারা আসে, অনেকেই খুব একা, খুব depression-এ ভোগে। তাদের শরীর-স্বাস্থ্য ছোটবেলা থেকে খুব challenge-এর মধ্যে দিয়ে গেছে বিভিন্ন কারণে। আর specially আমি একাকিত্বটা সাংঘাতিকভাবে দেখি এখনকার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে।
তখন মনে হয়, আরও বেশি প্রয়োজন ভালো করে থিয়েটার করে যাওয়া। কারণ থিয়েটার মানেই কিন্তু সবাই একসঙ্গে বেঁধে বেঁধে থাকা। তো সেটার জন্য আরও করে যাই, যাতে সবাই এই যে কটা দিন বাঁচব, যেন হইহই করে বাঁচতে পারি।
আর Tradition, culture সবটাই আছে। তবে আমার জীবনে আমি এত বছর থিয়েটার করতে করতে, নিজেকে যখন discover করেছি, পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে আমার মনে হয়, আমি হচ্ছি ভীষণ emotional লোক। এবং আমি ভীষণ ভালোবাসতে ভালোবাসি। ভালোবাসা পেতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। আমার জন্য ওই একটাই magic হচ্ছে ভালোবাসা। আমাকে ভালোবাসা দিলে আমাকে দিয়ে সমস্ত কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। যেটার জন্য মাঝে মাঝে আমার হয়তো ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু আখেরে আমার খুব আনন্দ হয়েছে। বিশ্বাস করতে, ভালোবাসতে আমার খুব ভালো লেগেছে। এইজন্যই আমি দল করি।
আর আগের থেকে এখন একটা difference, সেটা হচ্ছে, মা-বাবা যেসময় থিয়েটার করেছেন, তখন কিন্তু এত জিনিসপত্রের দামও ছিল না। আর লোকেদের lifestyle-টাও অন্যরকম ছিল। আমরা অনেক অল্পে তুষ্ট হতাম। ছোটবেলায় রবিবার দিন আমাদের বাড়িতে ডিম রান্না হতো বা ভালো মাছ রান্না হতো। বাকি দিন আমরা মোটামোটি veg খেতাম। কিন্তু এখন সবকিছুই প্রাচুর্য। সবকিছুই।
এবং এইটা আমি যদি কাউকে বলি যে, “না, তুমি এটা করবে, না, ওটা থেকে দূরে থাকো” এমন করে তো কাউকে starve করা যায় না। তার ফলে সময়ের পরিবর্তন, লোকেদের earning করার ইচ্ছে, টাকা রোজগার করা, টাকা খরচ করা, সব জিনিসটাই পাল্টে গেছে।
সেক্ষেত্রে এখন একটা অন্য system আমি করেছি। এবং সবাইকে encourage করি যে, সবাই যদি চাকরিবাকরি করে, অন্যান্য মাধ্যমে যদি কাজ করে টাকা খানিকটা রোজগার করতে পারে, তাহলে সে অনেক আনন্দ করে সুস্থভাবে থিয়েটার করতে পারে।
আমাদের দলে অধিকাংশ ছেলে মেয়েই চাকরিবাকরি করে। তারা বাকি সময় এখানে এসে দেয় এবং তারা কিন্তু পারে। হ্যাঁ, খাটতে হয় একটু বেশি, কিন্তু তারা পারে।
সবার আরও অন্যান্য কাজ করে টাকা উপার্জন করা, এইটা একটা change হয়েছে। কারণ সত্যি, আজ অবধি থিয়েটার কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে self-reliant নয়। আমাদের দেশে তো নয়। তো সেই ক্ষেত্রে ওইটা একটা allowance করা হয়েছে। তাতে যারা সত্যিই খুব ভালোবাসে, তারা কিন্তু থাকে। আমার বহু ছেলে-মেয়ে আছে, যারা দশ-পনেরো বছর চাকরিবাকরি করে এবং থাকে।
শেষ পর্যন্ত, যারা সত্যিই ভালোবাসে, তারাই থেকে যায়।
থিয়েটার সবসময় প্রাসঙ্গিক ছিল, আছে, থাকবে। থিয়েটার যত দিন যাবে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হবে। With the advent of AI এবং with the advent of the mechanized or digital days, থিয়েটার হচ্ছে about here and now। থিয়েটারে এই যে সামনে সবটা দেখতে পাচ্ছে, একটা ভালো অভিনয় রক্তমাংসের মানুষের, সেটা সামনে দেখতে পাচ্ছে এইটার জন্য থিয়েটার খুবই ভালো থাকবে এবং একটা হয়তো niche audience তৈরি করবে। যেটা আমার মনে হয় খুব interesting future।
আর আমি নিজে সাধারণভাবে খুব optimistic, যেকোনো বিষয় আমি চেষ্টা করি শেষ অবধি লড়ে যাব। এবার অনেক কিছুই তো পালটাবে। এখন থিয়েটারের সম্পর্কেও যে কথাটা হয়, আমি দেখেছি অনেকে বলে যে সিনেমা কিছুদিন বাদে থাকবে না, শুধু হবে OTT, আবার শুনি যে OTT-ও থাকবে না, মুঠো ফোনের মধ্যে যা দেখা যায়, সেটা থাকবে। আবার কেউ বলে যে Megaserial থাকবে না, Serial উঠে যাবে। অনবরত এই process, নানান change, নানান কিছু বিনোদনের change হতে থাকবে।
আমার মনে হয় যে নান্দীকারে যে ধরনের থিয়েটার করা হয়, সেটা কিন্তু Contemporary-র থেকেও modern আমি বলব। মানে শুধু একটা Contemporary issue-কে address করে হইহই করলাম, তার থেকে এমন একটা কিছু address করলাম যার আজ থেকে দশ বছর বা পনেরো বছর পরেও value থাকবে, মনে হবে যে, “বাহ, এটা এখনও প্রাসঙ্গিক।” So this is modern, তো এইরকম একটা কোনো বিষয় নিয়ে একটা কিছু হতে পারে। আবার আমি যখন Brecht করি, আমার মনে হয় যে Brecht করা আরও বেশি দরকার। যেটা Brecht শেখান, যে অভিনয়ের pattern বা বিষয়বস্তু, সেটা পরবর্তী প্রজন্মের শেখা উচিত, জানা উচিত।
মানে আমি যদি মনে করি যে, বাবা Shakespeare-কে আমি থিয়েটার করে বিক্রি করতে পারব না, তাই বলে Shakespeare না জানাটা তো অন্যায়, তাই না? আর রবীন্দ্রনাথের Text-ও না জানানাটা তো অন্যায়। সেই জন্যেই ভালো Text always works এবং ভালো অভিনয় always works।
এবার যেটা গলমাল, যেটা সবার মনে হয়, সেটা হচ্ছে, আমি এর থেকে কী পেলাম? অর্থনৈতিকভাবে আমি এটা থেকে কী পেলাম? এইগুলো ব্যক্তিবিশেষে differ করে। আমার মতে, এটা আমি practice করি বলেই আমার মনে হয়। আমি সবসময় চেষ্টা করি যে আমি ভালো করে অভিনয় করব। সবাইকে নিয়ে ঘাম ঝরিয়ে, পরিশ্রম করে দারুণ কিছু করব। সেটা কোনো Original বিষয় হতে পারে, সেটা কোনো মজার গল্প হতে পারে, সেটা কোনো Classical Text হতে পারে। সেটা নিয়ে আমি নতুনভাবে চেষ্টা করব।
আমাকে বারবার মঞ্চে যেটা ফিরিয়ে আনে, সেটা হচ্ছে আমার নিজের ভিতরের শক্তি। যখন কোনো role দেওয়া হয়, একটা বড় role ধরো, সেই role টা যখন মুখস্থ করে একটা live audience-এর সামনে perform করি, তারা আমাকে দেখে আনন্দ পান, আমারও অভিনয় করে আনন্দ হয়, এইটাই আমাকে বারবার ফিরিয়ে আনে।
আমার ক্ষমতা আমি বারবার যাচাই করছি নিজের সঙ্গে। এবং আমার মনে হয় যে আমি বেঁচে আছি। মানে আমি আজকে এটা পারলাম, এটা পারলাম না। থিয়েটার কিন্তু কোনো আপোস করে না। থিয়েটার একেবারে পরিষ্কার বলে দেয়, “ভাই, তুমি এটা পারো, তুমি এটা পারো না।” এই যে নিজের সঙ্গে যে খেলা অনবরত, এবং নিজেই নিজেকে judge করা, এইটাই আমাকে বারবার থিয়েটারে ফিরিয়ে আনে।
আর আমার সঙ্গে যারা পারফর্ম করছে, এই যে সবাই সাঙ্ঘাতিক চেষ্টা করছে এবং সবাই কিন্তু দীর্ঘদিন “কী পাব?” এই আশা না করে কাজ করে যায়, আমার সেটা দেখে অসম্ভব শ্রদ্ধা হয়। জীবনে সবসময় না ওই হিসেবটা মেলে না, যে পাঁচ পয়সা দিলাম, পাঁচ পয়সা পাব। এটা তো হয় না। ওই যে নিঃস্বার্থভাবে করে যাওয়া, এই যে passion, এটা আমার দারুণ লাগে। এইটার জন্যই, human connection-এর জন্য এবং নিজের সঙ্গে connection-এর জন্য, আমি থিয়েটারে বারবার ফিরে আসতে ভালোবাসি।
সত্যি কথা বলতে কী, আমরা যখন ধরো সিনেমায় অভিনয় করছি বা Mega-তে করছি, এখন আমি একটু যেহেতু senior হয়েছি, আমি একটা certain pampering পাই। আমাকে একজন সুন্দর করে চুল বেঁধে দিচ্ছে, একজন এসে make-up করে দিচ্ছে, একজন আমার set-টা লাগিয়ে রেখেছে, একজন এসে বলছে, “দিদি, চা খাবে?”
এইটা কিন্তু থিয়েটারে নেই। থিয়েটারে কিন্তু আমি আমার সবটা করি। আমি নিজে জামাকাপড় ইস্ত্রি করে নিয়ে যাই, নিজের role-টা করি, Light লাগানোর সময় আমি সাহায্য করি, Set-টা লাগানোর সময় সাহায্য করি, নিজেই নিজের make-up করি, নিজেই Ticket sale হচ্ছে কিনা দেখি। এই যে এত দক্ষযজ্ঞ, আমি একটা করতে পারছি এবং successfully করতে পারছি, I absolutely love this feeling এবং আমি ওখানে বসেই ছোটো ছোটো হিসেব-নিকেশ করছি না যে, “বাবা, আমাকে একটুখানি pamper করো।” নিজের ভেতরে এই লোভটাকে আমি দমন করতে পারছি। আসল তো কাজ। ভালো কাজ করাটাই আসল কথা। সেইটা থিয়েটারে করতে করতে ওটা নিজের সঙ্গে একটা খেলা হয়ে যায়।
আমি অন্যান্য যেসব পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি, আমি একটা সময় পড়াতাম, এখন আর পড়াই না, আমি resign করে দিয়েছি।
আমি একটা ভালো Result করে Pass করেছিলাম। আমার মনে হতো যে আমি parallelly কিছু একটা রোজগার করব, তারপর বাকি সময়টা আমি থিয়েটার করব। আমি খুব বুদ্ধি করে এমন একটা চাকরি করতাম, যেখানে সাড়ে চারটে সময় আমি free হয়ে যেতাম। তারপর থেকে আমি যত ইচ্ছে থিয়েটার করতে পারি।
কিন্তু আস্তে আস্তে যত আমার বয়স বেড়েছে, অভিনয় করা ছাড়া আর কিছু করতে ভালো লাগে না। আমার শুধু অভিনয় করতে ভালো লাগে। শুধু অভিনয় সংক্রান্ত পড়াশোনা, অভিনয় সংক্রান্ত সবকিছু ভালো লাগে। আমার মনে হয়েছে, এবার I should choose absolutely what I want to do এবং আমি সেখান থেকেই রোজগার করার চেষ্টা করব। এটা ভেবেই আমি একটা ঝাঁপ দিয়েছি।
তবে থিয়েটার করার পথ মসৃণ করার জন্য কিন্তু আমি একেবারেই অন্যান্য মাধ্যমে কাজ করতে যাইনি। প্রথমে যেমন by chance থিয়েটার করতে এসেছি, ওরকমই একদম by chance অন্যান্য মাধ্যমেও আসা। আমি কিন্তু থিয়েটার করব এই ইচ্ছে নিয়ে কখনো বড়ো হইনি। আমার ইচ্ছে ছিল আমি পড়াশোনা করে বিদেশে চলে যাব। আমার ভালো Result হয়েছিল এবং আমি বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করে ওখানে Professorship নেব বা এরকম কিছু করব। আমার কলেজের স্যাররাও এটা চেয়েছিলেন।
কিন্তু যখন আমি থিয়েটার করতে আরম্ভ করি, ওটা by chance। একটি role একজনের করার কথা ছিল। সে Last Minute-এ করতে পারেনি। তখন বাবা আমাকে request করেন, “তুমি মুখস্থ করে একটা Show করে দেবে?” এই একটা Show করতে এসে আমি ফিরে যেতে পারিনি। ওটাতে এত আনন্দ হয়েছিল যে ওটা আমি করে গেছি। এবং নিজের সঙ্গে যে self-discovery, নিজের physical self-discovery, নিজের মন discover করা এবং একটা বিশাল সমুদ্র তো যেকোনো Fine Arts, সেটা একটা ভীষণ আরাম দিয়েছিল আমায়।
আমার মনে হয়েছিল যে আমি যা যা পড়াশোনা করেছি, মানে আমার বুদ্ধি, আমার মেধা, আমার মন, আমার সবকিছু একটা জায়গায় এসে মিশ্রিত হচ্ছে এবং নিজেকে powerful মনে হয়েছিল, I also matter এটা মনে হয়েছিল আমার। এভাবেই আমি থিয়েটার করতে আরম্ভ করি। তারপর আমাকে একটা সিনেমার জন্য বলা হয় ‘পারমিতার একদিন’, অপর্ণা সেন বলেন। সেটা আমি করি। সেটা করার পর আমি International Award পাই। এবং ওইটাই অনবরত হয়ে গেছে মানে পরপর অভিনয় করে গেছি। মাঝেমধ্যে কিছু recognition, কিছু Award পেয়েছি। আমি অভিনয় করতে করতে সিনেমার অভিনয়ের ধরণ বুঝেছি। আমার আনন্দ হয়েছে। পরবর্তীকালে আমি যখন ‘ঠাকুমার ঝুলি’, ‘খড়কুটো’ করতে যাই, তখন Television-এ কাজ করে খুব মজা হয়েছে।
Shooting-এ সকাল থেকে বিভিন্ন লোক দৌড়াদৌড়ি করছে একটা একটা Shot নেবে বলে, এইটা একটা ভীষণ মজার জিনিস। যে কিছু লোক তারা কিন্তু একটা কিছু সৃষ্টি করবে বলে ছোটাছুটি করছে, এইটা আমার খুব ভালো লাগে। এই যে সকালে উঠে মনে হয়, আমার চাকরি কী? আমি অভিনেতা। এটা আমার দারুণ লাগে।
I’m very privileged যে আমি যেটা করতে চেয়েছি, আমি সেটা করেই রোজগার করতে পারছি। এই privilege ক’জনের হয়?
এবং একদম ওইভাবেই, আমি যেমন থিয়েটারের অভিনয় করতে ভালোবাসি, অন্য মাধ্যমেও অভিনয় করতে ভালোবাসি। আর আমি নতুন অভিনেতাদের অভিনয় শেখাতেও ভালোবাসি, যাতে তারা এই আনন্দটা উপভোগ করতে পারে। এইসব আমার থিয়েটারের পথ মসৃণ করেনি, বরং আরও difficult হয়েছে। আমি সারাদিন Shooting করি, কিন্তু অধিকাংশ দিন সারারাত rehearsal করি। তাতে আমার ক্লান্তি হয়। কিন্তু এই ক্লান্তি আনন্দের ক্লান্তি।
মরে তো একদিন যাবই। কিন্তু যেন চারটে কাজ করে মরি। কোনো কাজ না করে বাড়িতে বসে মরে গেলাম, এটা আমি চাই না। আমি যেন কিছু কাজ করে মরতে পারি। আমি আমার অনেক senior অভিনেতাদের দেখেছি, যারা প্রচুর কাজ করছেন। এখান থেকে ওখানে দৌড়াচ্ছেন, থিয়েটার, সিনেমা, Television সব জায়গায়। তাঁদের প্রতি I have deep respect, এরকম অনেক senior আছেন, যারা কাজ করতে ভালোবাসেন,
I really like that And I like less talk and more work.

আমি থিয়েটার করে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করব।
তাঁর কাছে থিয়েটার শুধুই উত্তরাধিকার নয়। থিয়েটারকে ভালোবাসাটা তাঁর কাছে অপশন নয়। কথা বললেন অর্ণ মুখোপাধ্যায়
আমার থিয়েটারে আসার পিছনে বা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকার পিছনে অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে থিয়েটারের ফ্যামিলিতে বড় হওয়া।ছোটবেলা থেকেই যে আমি খুব থিয়েটার পছন্দ করতাম বা নিয়মিত থিয়েটার দেখতে যেতাম তা নয়। কিন্তু খুব ছোটবেলায় বাবা-মা আমাকে দলে নিয়ে যেতেন, সেখানে বসে বসে রিহার্সাল দেখতাম এবং সেটা যে খুবই আনন্দদায়ক বা entertaining একটা বিষয়, এটা আমার কখনো মনে হত না। তবে যত বড় হলাম, দলের প্রয়োজনে ছোট ছোট শিশু শিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করলাম। আমি যে স্কুলে পড়তাম, সেখানেও একটি ড্রামা ক্লাব ছিল। সেইসব করতে করতে কবে যে থিয়েটারের প্রতি প্রেম জন্মে গেল, এইটা আমি ঠিক বুঝতে পারিনি।
তবে একটি ঘটনার কথা বলতে পারি। আমাদের নাট্যদল নটধা, যে সংঘের থিয়েটার ট্রেনিং-এর মধ্য দিয়ে আমি বড় হয়েছি, যে জায়গাটা আমার কাছে চর্যার ক্ষেত্র, সেখনে ২০০২ সালে, ‘মহাভারত ১’ নামে একটি নাটক হয়েছিল।
বাংলা থিয়েটারের মহীরুহ বিভাস চক্রবর্তী, মেঘনাদ ভট্টাচার্য, দিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়, এঁদের অভিনয় কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা আমার জীবনে কোথাও একটা গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সেখানে প্রায় পঞ্চাশজন অভিনেতা অভিনয় করেছিলেন। বাংলা থিয়েটারের মহীরুহ বিভাস চক্রবর্তী, মেঘনাদ ভট্টাচার্য, দিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়, এঁদের অভিনয় কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা আমার জীবনে কোথাও একটা গভীর প্রভাব ফেলেছে।
আমাদের বাড়িতে কখনও থিয়েটার ‘মোড’ বন্ধ হতো না। মানে বাড়িতে বাবা মায়ের মধ্যে কখনো কোন বৈষয়িক আলোচনা দেখছি বা অন্য কোন বিষয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে এরকম কখনো হয়নি। রিহার্সাল থেকে ফিরে থিয়েটার নিয়ে আলোচনা, সংঘের মানুষদের বাড়িতে আসা, থিয়েটার নিয়ে কথাবার্তা, এই সবকিছুই অজান্তেই আমার Subconscious এ ঢুকে গেছে, ফলত আমি এটার জন্য নিজেকে বিরাট কৃতিত্ব দিতে চায় না। সিংহভাগ কৃতিত্বই আমার বাবা-মা এবং পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশের।
কিন্তু সাড়ে পাঁচ হাজার বছর ধরে যে শিল্পমাধ্যম পৃথিবীতে টিকে আছে, এত বছর ধরে যে লাইভ আর্ট ফর্মের চর্চা হচ্ছে। সেখানে আমি অর্ণ মুখোপাধ্যায়ের থিয়েটারকে বাঁচিয়ে রাখার কে? থিয়েটারকে প্রাসঙ্গিক করার মতো কোনো দৈবশক্তি আমার নেই।বরং আমি থিয়েটার করে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করব।
আসলে থিয়েটারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালোবাসার। দায়িত্ববোধও সেই ভালোবাসা থেকেই আসে। ভালোবাসা না থাকলে দায়িত্বই ভার হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমি থিয়েটারকে কখনও দায়িত্ব হিসেবে ভাবিনি। এই প্রেম যতদিন থাকবে, ততদিন থিয়েটার করব।
আমার কখনও মনে হয়নি যে দলকে বড় জায়গায় নিয়ে যেতেই হবে বা জীবনে অনেক কিছু প্রমাণ করতেই হবে। আমার বাবাও কখনও বলেননি যে আমাকে তাঁর দলেই থিয়েটার করতে হবে বা থিয়েটার করতেই হবে। বরং এমনও সময় গেছে যখন আমি কয়েক বছর শুধুই অভিনয় করেছি, পরিচালনা করতে ইচ্ছা করেনি। যখন ভালো লেগেছে, তখন আবার পরিচালনা করেছি।
নিজেকে প্রমাণ করার বা দলকে কোথাও পৌঁছে দেওয়ার ভার আমি কখনও বোধ করিনি। আমি থিয়েটারকে ভালোবেসেছি, থিয়েটারের দলকে ভালোবেসেছি। আসলে সংঘ একটি নামমাত্র। আমি ভালোবেসেছি সেই সংঘের মানুষগুলোকে। সেই সংঘেরই অভিনেত্রী আমার জীবনসঙ্গী হয়েছেন, আমার সন্তানের মা হয়েছেন। পরিবারের ভাইবোনদের মতোই, অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি, আমি আমার দলের ছেলে মেয়েদের ভালোবাসি।
এই ভালোবাসার বোধ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বলেই আজও থিয়েটার করছি। সমাজ বদলে দেওয়া বা কোনো বিরাট দায়ভার বহন করার ভাবনা থেকে নয়। আর থিয়েটারকে প্রাসঙ্গিক রাখার আমি কে? থিয়েটার নিজের গুণে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে। সিনেমা তো দেড়শো বছরের বাচ্চা ছেলে।এর মধ্যেই তার দম ফুরিয়ে এসেছে। ওটিটি চলে এসেছে, তিরিশ সেকেন্ডের রিল চলে এসেছে, আরো নতুন প্রযুক্তি চলে আসবে। এরপরে হয়তো এমন কিছু একটা আবিষ্কার হয়ে যাবে যে শুধু চশমা পড়লেই সিনেমা দেখা যাবে।
কিন্তু সাড়ে পাঁচ হাজার বছর ধরে যে শিল্পমাধ্যম পৃথিবীতে টিকে আছে, এত বছর ধরে যে লাইভ আর্ট ফর্মের চর্চা হচ্ছে। সেখানে আমি অর্ণ মুখোপাধ্যায়ের থিয়েটারকে বাঁচিয়ে রাখার কে? থিয়েটারকে প্রাসঙ্গিক করার মতো কোনো দৈবশক্তি আমার নেই।বরং আমি থিয়েটার করে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করব। থিয়েটারের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। অন্য সব মাধ্যমে সামনে চ্যালেঞ্জ আছে সব সময়। থিয়েটার নিজের শক্তিতেই টিকে আছে এবং টিকে থাকবে।
সিনেমাতেও আমি অভিনয় করতে চেয়েছি কিন্তু আজও আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আমি বলব, থিয়েটারে অভিনয় করে আমি অনেক বেশি আনন্দ বোধ করি। তবে আমি চিরকালই থিয়েটার করতে করতে সিনেমা বানাতে চেয়েছি।
যৌবনের মধ্যগগন, ২০১৭ সাল থেকে সিনেমায় অভিনয় করছি। কিন্তু তার আগে দীর্ঘদিনের থিয়েটারচর্চার ইতিহাস রয়েছে আমার। সিনেমা নিয়ে আমার কোন বিরাট অ্যাম্বিশন নেই, থিয়েটার নিয়েও যে বিরাট কোন আম্বিশন আছে তা নয়, কিন্তু হ্যাঁ এইটা ঠিক সিনেমা করে আমি খানিকটা মানসিকভাবে খানিকটা অর্থনৈতিকভাবে একটা সিকিওর জায়গাতে যেতে পারি।সিনেমাটায় আমার মূল পেশা। থিয়েটার আমার পেশা নয়। তবে পেশার বাইরে গিয়েও সিনেমা বানানোর একটা শখ আমার আছে।

চেতনা আমার হৃদয়ের একটা অংশ।
থিয়েটারকে ভালবাসাটা তাঁর কাছে একটা অটোম্যাটিক চয়েস। চেতনার নতুন যাত্রা নিয়ে কথা বললেন সুজন নীল মুখোপাধ্যায়
আমার জীবনে থিয়েটারের প্রভাবটা অটোমেটিক ছিল। আমি যে ফ্যামিলিতে বড় হচ্ছি মূলত আমি, মা, বাবা, দাদা আমাদের চারজনের পরিবার, আর একটা এক্সটেন্ডেড পরিবার ‘চেতনা’। এক্সটেন্ডেড পরিবার, কারণ এই দলটা একটা পরিবার হয়ে ওঠে। সবসময় এই ধারণা থেকেই সবাই থিয়েটার করে এসেছে এবং সেই জায়গা থেকে চেতনা আমার পরিবারের একটি অংশ। চেতনার জন্ম আর আমার জন্ম খুবই কাছাকাছি সময়ে, চেতনা আমার থেকে দু’বছরের বড়। আমি যখন জন্মাচ্ছি, চেতনার তখন টপ সময়। তখন ‘মারীচ সংবাদ’ তুমুল আলোড়ন ফেলে দিয়েছে থিয়েটার মহলে, তারপর ‘জগন্নাথ’ নামছে ১৯৭৭-এ। আমি একদম সেই ক্রিম ফেজটাতেই বড় হচ্ছি।
আজকের দিনে ডিজিটাল যুগে মানুষের চোখ পাল্টে গেছে, রঙের ক্যানভাস পাল্টে গেছে, কান পাল্টে গেছে, সাউন্ডস্কেপ পাল্টে গেছে। আমার মনে হয়, এগুলো মাথায় রেখেই থিয়েটার করা উচিত। মানুষের দেখার ক্যানভাস তো পাল্টেছেই। ১৯৭০-এ যে ক্যানভাস ছিল, এখন তো সেটা আর নেই। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পাল্টেছে, সাহিত্যে পাল্টেছে, গানে পাল্টেছে।
যেহেতু আমি ছোট, বাইরে শো হলে মা-ও যাচ্ছে, আমিও সঙ্গে যাচ্ছি। সেই সূত্রে পাঁচ বছর বয়সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মঞ্চে নামা। একটি ছোট গান ছিল, সেটাই আমার প্রথম অভিনয়। না চাইতেও আমি জড়িয়ে পড়ছি। আমার বেড়ে ওঠার প্রতিটা অনুভূতিতে থিয়েটার জড়িয়ে পড়ছে এবং তারপর আমার নিজস্ব মত তৈরি হচ্ছে, নিজস্ব ধারণা তৈরি হচ্ছে। সেটা থিয়েটারের মাধ্যমে, পড়াশোনা ও স্কুলের মাধ্যমে। থিয়েটারকে ভালোবাসা, থিয়েটারের প্রেমে পড়াটা একটা অটোমেটিক চয়েস ছিল। আমি বড় হয়ে সেখান থেকে সরে আসতে পারতাম, কিন্তু অভিনয়ের প্রতি আমার ভালোবাসাটা এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে আমি সেখান থেকে আর বেরোতে পারিনি। একটা ফ্যামিলি এইভাবেই প্রভাব ফেলে।
বাড়ির মধ্যে আলাপ-আলোচনা সবই থিয়েটারকেন্দ্রিক। আর থিয়েটারকেন্দ্রিক মানে শুধু থিয়েটার নয়, সেখান থেকে গান আসছে, পাশ্চাত্য সঙ্গীত আসছে, দেশীয় সঙ্গীত আসছে, পেইন্টিং আসছে, ভালো সিনেমা আসছে, ভালো সিনেমা দেখার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। এই যে ভালো সিনেমা দেখার চোখ তৈরি হওয়া, বাড়িতে মহান ব্যক্তিত্বদের আসা, আমি হয়তো তখন কিছু বুঝতাম না, কিন্তু কোথাও একটা অনুভব করতে পেরেছিলাম যে থিয়েটার খুব শক্ত জিনিস।
এর পিছনে অনেক পরিশ্রম লাগে, মেধা লাগে, জ্ঞান লাগে। থিয়েটারের একটি বড় অংশ হলো অভিনয় আরেকটা পরিচালনা। অভিনয় এবং গানের প্রতি আমি সবসময় আকর্ষণ বোধ করে এসেছি। ছোট থেকেই আমার মঞ্চে নামার সুযোগ মিলেছে। ছোট ছোট চরিত্র করেছি, ভিড়ের মধ্যে ঢুকেছি।
কিন্তু ক্লাস টেনে উঠে ‘কবীরা খাড়া বাজার মেঁ’–এর বাংলা অনুবাদে নাটক ‘কবীর’-এ একটি চরিত্র করি। ভীষ্ম সাহনির লেখা নাটক। চরিত্রটি আট-দশ মিনিটের মতো ছিল, তিনটে গান ছিল। কিন্তু চরিত্রটা খুব প্রশংসা পেয়েছিল। কাগজ পত্রে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছিল। সেই লেখাগুলো পড়ে, তখন কম বয়স তো, কনফিডেন্স বাড়ে যে আমিও অভিনয় করতে পারি, মঞ্চে গাইতে পারি।
তারপর আমি পরিবারের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাই। এটা খুব ইন্টারেস্টিং। পরিবারের মধ্যে থেকে থিয়েটার বা অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে, তারপর আমি যখন অঞ্জন দত্তের কাছে যাচ্ছি, তখন অঞ্জনদার থিয়েটারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছি। অঞ্জনদাই প্রথম আমাকে মূল চরিত্র দিচ্ছেন। আমার বাবার নাটকে কিন্তু আমি মূল চরিত্র করিনি। মূল চরিত্র বলছি এই কারণে যে সেখানে অভিনয়ের সুযোগ অনেক বেশি। ছোট চরিত্রও দাগ কাটতে পারে, থিয়েটারে বড়-ছোট চরিত্র নিয়ে আমরা কোনোদিন ভাবিনি। কিন্তু নায়ক হিসেবে প্রথম সুযোগটা আমি অঞ্জন দত্তের মাধ্যমেই পাই, তখন আমি ক্লাস টুয়েলভে পড়ি।সেখান থেকেই অঞ্জনদা আমার ওয়ান অফ দ্য মেন্টর হয়ে উঠবেন, সেটা তো আমি জানতাম না। আমার বাবাই তাঁর একটি নাটক দেখে বলেছিলেন, “ও ছোটদের নিয়ে কাজ করছে, তুই ওর সঙ্গে কাজ কর।”
সেই সময় প্যারালালি আরও একটি নাটকে কাজ করি ‘কেয়ার করিনা’ জয়তী বসুর পরিচালনায়। ‘কেয়ার করিনা’ সেই সময় ম্যাসিভ হিট হয়। প্যারালালি দুটোতেই আমি মূল চরিত্র করতে থাকি এবং মানুষের ভালোবাসা পেতে থাকি। তার মধ্যেই আমি সিনেমায় অভিনয় করে ফেলি। সেখানে আমি ওম পুরীর সঙ্গে অভিনয় করি। এইভাবেই থিয়েটার, থিয়েটার থেকে ওইখানে সুযোগ পাওয়া, আস্তে আস্তে অন্য মাধ্যমে কম হলেও রোজগার করতে শুরু করি। অভিনয় যে একটা পেশা হতে পারে, আমার কাছে সেই ধারণা তৈরি হতে থাকে।
এর ইতিহাসটা হচ্ছে আমার থিয়েটার করা। থিয়েটার করা মানে শুধু মঞ্চে অভিনয় করা নয়, রিহার্সাল দেখা, মহড়া দেখা। এই শিক্ষা দীর্ঘ দিন দলের সঙ্গে থাকা এবং একটি দলকে নিজস্ব ভঙ্গিতে পর্যবেক্ষণ করার ফল। হাতে ধরে ধরে বাবা আমাকে শিখিয়েছেন তা নয়। উনি আমার অলিখিত গুরু। ওঁর কাজ দেখে বড় হয়েছি। তারপর তো অঞ্জন দত্তের একটা বড় ভূমিকা আছেই।
এইভাবেই আমার থিয়েটার জার্নি শুরু হয় এবং তারপর একজন পেশাদার অভিনেতা হয়ে উঠি। তারপর যদি জাম্প কাট করে ২০১৫-তে আসা যায়, নানা কারণে চেতনা যখন থমকে গেছে, নতুন কোনো নাটক হচ্ছে না, তখন আমার একটা অন্য রূপ সামনে আসে। সংগঠক হিসেবে দলকে নতুন করে তৈরি করা। শুধু সংগঠক হলে তো হবে না, পরিচালকও লাগবে। সেই আমার প্রথম চেতনার হয়ে পরিচালনা করা ২০১৬ সালে ‘ঘাসিরাম কোতোয়াল’।
২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল, দশ বছর হয়ে গেল। আমি পরিচালক হিসেবেও কাজ করছি। খানিকটা চেতনাকে সারভাইভ করানোর জন্য। ছোট থেকে যে দলটার সঙ্গে আমার বেড়ে ওঠা জড়িয়ে আছে, সেই দলটা তো বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। সেই জায়গা থেকেই আমার পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করা। তার আগে আমি সিনেমা পরিচালনা করেছি। থিয়েটারের পরিচালনাও করেছি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিবপ্রসাদ অভিনয় করেছিল তাতে। সেই ‘ভুল রাস্তা’ নাটকটাই আমরা আবার ২০২৫-এ করেছি।
কিন্তু আমি কোনোদিন পরিচালক হতে চাইনি। অভিনেতাই হতে চেয়েছি। অরুণ মুখোপাধ্যায় চেতনা সাম্রাজ্যের অধিপতি, তারপর সুমন মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন পরিচালনা করেছেন চেতনাকে। আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, চেতনার জন্যই, একটা অদ্ভুত অন্ধকার সময়ে দাঁড়িয়ে ‘ঘাসিরাম কোতোয়াল’ করার ঝুঁকি নিয়েছিলাম। শিল্পে যদি ঝুঁকি না থাকে, তাহলে সেই শিল্প শিল্পই নয়। এটা একটা কথার কথা আরকি, কিন্তু ‘ঘাসিরাম কোতোয়াল’ অত বড় একটা মিউজিক্যাল, অত নতুন ছেলেমেয়ে নিয়ে কাজ, আবার এত বিখ্যাত একটা মারাঠি নাটক। মানুষের মনে তার আলাদা প্রভাব রয়েছে। সেটাকে অতিক্রম করে নাটকটা করাটা এখন উপভোগ করি, কিন্তু তখন খুবই ভয় পেয়েছিলাম।
এভাবেই ২০১৬ সালে পরিচালনায় আসা। চেতনা আমার হৃদয়ের একটা অংশ। সেই জায়গা থেকেই আমার পরিচালনা শুরু হয়। মানুষ এই নব্য চেতনাকে আবার ভালোবাসতে শুরু করে। সেই হিসাবে দশটি নাটক, শেষ ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ পর্যন্ত পরিচালনা করা চেতনার জন্য। আর মধ্যখানে অন্য মাধ্যমের জার্নি তো আছেই টেলিভিশন, সিনেমা এবং আজকের ওটিটি।
কিন্তু আবার থিয়েটারের নিজস্ব ঐতিহ্য, রূপ, রস, গন্ধ নিয়ে, এই যে থিয়েটারে কোনো সিনথেটিক ব্যাপার নেই, এই লাইভ, র’ ব্যাপারটা তখনও মানুষকে আকর্ষণ করেছে, এখনও করে। থিয়েটারের এই জোরটা বা টানটা সবসময় থেকে যাবে, ডিজিটাল মাধ্যম যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন।
তবে আমার স্বাধীনভাবে ক্রিয়েট করার জায়গা হচ্ছে থিয়েটার। সেটা আমি অভিনেতা হিসেবেও করতে পারি, পরিচালক হিসেবেও করতে পারি। এখানে আমাকে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। অবশ্যই অর্থ লাগবে, সেই অর্থটা আমি কীভাবে জোগাড় করব সেটা ভাবতে হবে আমাকে। আমার ভিতরে যদি কোনো মতাদর্শ থাকে, মানুষের প্রতি যদি কোনো ভাবনা থাকে বা সমাজের প্রতি কোনো বার্তা থাকে, সেটা আমি থিয়েটারের মাধ্যমে বোঝাতে চাই, আমার যে কোনো প্রোডাকশনের মাধ্যমে বোঝাতে চাই। সেটা আমি অন্য কোথাও পাবো না।
আমি যখন অভিনয় করছি, সংলাপ বলছি, সামনে মানুষটা যা চাইছে সেটাই বলতে হচ্ছে আমাকে। কিন্তু থিয়েটারের ক্ষেত্রে একদমই তা নয়। আবার আমি যে এতদিন থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরেছি, এর পিছনে অন্য মাধ্যমেরও প্রচুর অবদান রয়েছে। কারণ থিয়েটার করে তো আমার রুটি-রুজি হবে না। সুতরাং আমাকে অন্য মাধ্যমে কাজ করতেই হবে।
চব্বিশ ঘণ্টা যদি থিয়েটারেই মনোনিবেশ করতে পারতাম, তার থেকে ভালো কিছু হতো না। কিন্তু আমার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়, এটা আমি বহুদিন আগেই বুঝে গেছি। কারোর পক্ষে সম্ভব হলে সেটা খুবই ভালো।
আরেকটা দিক হচ্ছে, থিয়েটারের যে স্পেসটা রিহার্সাল প্রসেস বা ওয়ার্কশপ, এইটাই সবসময় আমার নিজের মধ্যে একটা ভাঙাচোরা চালিয়ে যায়। আমি নিজেকে ভাঙছি, গড়ছি; ভাঙছি, গড়ছি। আজকে ঋত্বিক ঘটক করছি, কালকে একটা চোরের চরিত্র করছি, পরশুদিন অন্য কোন চরিত্র করছি। এই নিজের মন নিয়ে যে প্রসেসটা সবসময় চলে, সেই শিক্ষাটাই কিন্তু আমি সিনেমা বা সিরিয়ালে কাজে লাগাই। ওটিটি, টেলিভিশন, মেগা শো মানুষ তো বাড়িতে বসেই দেখতে পায়। কিন্তু থিয়েটার দেখার চর্চাটাই একটা আলাদা চর্চা। কারণ সামনে বসে লাইভ পারফরম্যান্স দেখার একটা আলাদা অনুভূতি রয়েছে। থিয়েটার দেখে মানুষের হৃদয়ে যে অনুভূতি জন্মায়, সেটা প্রতিবাদের হতে পারে, রাগের হতে পারে, ভালো লাগার হতে পারে। ভালো লাগাটা কোথাও একটা জারিত হয়, কারণ থিয়েটার বিনোদনের সঙ্গে সঙ্গে সময়ের কথা বা ইতিহাসের কথা বলছে, যেটা দর্শকে প্রশ্ন করাবে বা ভাবাবে। কমবেশি সব নাটকেই সেটা রয়েছে। কিন্তু বিনোদনের সঙ্গে তার কোনো ব্যাঘাত নেই।
আজকের দিনে ডিজিটাল যুগে মানুষের চোখ পাল্টে গেছে, রঙের ক্যানভাস পাল্টে গেছে, কান পাল্টে গেছে, সাউন্ডস্কেপ পাল্টে গেছে। আমার মনে হয়, এগুলো মাথায় রেখেই থিয়েটার করা উচিত। মানুষের দেখার ক্যানভাস তো পাল্টেছেই। ১৯৭০-এ যে ক্যানভাস ছিল, এখন তো সেটা আর নেই। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পাল্টেছে, সাহিত্যে পাল্টেছে, গানে পাল্টেছে।
থিয়েটার মানুষকে সবসময় ভাবায় এবং প্রশ্ন করায়, এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে, কনটেন্টের মাধ্যমেও, থিয়েটারের জোর সেইখানেই। জ্যান্ত অভিনয় দেখা, প্রিয় শিল্পীর অভিনয় দেখা, এর আলাদা আকর্ষণ আছে। ধরো, নাসিরুদ্দিন শাহের অভিনয় সামনে থেকে দেখব, এটার যেমন আলাদা আকর্ষণ রয়েছে, আবার নতুন নতুন ছেলেমেয়েরা যখন অভিনয় করে তা দেখারও আলাদা আকর্ষণ রয়েছে, তাদের অভিনয়ের জোরেই তো নতুন অভিনেতা তৈরি হয়। থিয়েটার এমন একটি জায়গা, যেখানে অভিনেতারা নিজেদের ঝালিয়ে নেয়, শানিত করে, প্রতিষ্ঠা করে। আমি এটাই বলব, শেখার জায়গা হচ্ছে থিয়েটার।
আর চ্যালেঞ্জ থিয়েটারের প্রতি সবসময়ই ছিল। সিনেমা অনেক বেশি শক্তিশালী মাধ্যম। ঋত্বিক ঘটকের কথাই তো আছে,তিনি থিয়েটার ছেড়ে সিনেমায় এসেছিলেন, তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য, “আমি আরও মানুষের কাছে পৌঁছতে চাই।”
কিন্তু আবার থিয়েটারের নিজস্ব ঐতিহ্য, রূপ, রস, গন্ধ নিয়ে, এই যে থিয়েটারে কোনো সিনথেটিক ব্যাপার নেই, এই লাইভ, র’ ব্যাপারটা তখনও মানুষকে আকর্ষণ করেছে, এখনও করে। থিয়েটারের এই জোরটা বা টানটা সবসময় থেকে যাবে, ডিজিটাল মাধ্যম যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এখন ডিজিটাল মাধ্যমকেও থিয়েটার ব্যবহার করছে। ডিজিটাল মাধ্যম কোথাও জড়িয়ে পড়ছে থিয়েটারের সঙ্গে। সেটাকে অস্বীকার করাটা বোকামো হবে।
